তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের কথিত প্রেমিকা, অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে ফোর্ট সেন্ট জর্জের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে বসানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রাজ্যটির প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে।
ডিএমকে-এর মুখপাত্র ‘মুরাসোলি’-তে প্রকাশিত একটি কড়া সম্পাদকীয়তে অনুষ্ঠানের আসন বিন্যাস এবং মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ও অভিনেত্রী তৃষার মধ্যে কুশল বিনিময়ের সময় একে অপরকে স্যালুট দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে হলুদ শাড়ি ও সবুজ ব্লাউজ পরা তৃষাকে বিজয়-এর বাবা এস এ চন্দ্রশেখর এবং মা শোভা চন্দ্রশেখরের পাশে প্রথম সারিতে বসে থাকতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় অভিনেত্রী তাকে দাঁড়িয়ে স্যালুট জানান।
তবে অভিনেত্রী তৃষার নাম উল্লেখ না করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনকারী মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের মর্যাদা ধুলোয় মিশে গেছে। যিনি তাকে ভোট দিয়েছেন, তিনিও কোনো লজ্জা বা দ্বিধা ছাড়া এই দৃশ্য মেনে নিতে পারছেন না, যেখানে এক অভিনেত্রীকে প্রথম সারিতে বসিয়ে একে অপরকে স্যালুট দিচ্ছেন।
এমন একজন ব্যক্তি, যিনি এই ধরনের অশালীনতা প্রকাশ্যেই সমর্থন করতে পারেন, তিনি আজ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসে আছেন।’
সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয় যে, বিজয়ের দলের (টিভিকে) সমর্থকরাও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীকে নিয়ে আসা এবং তাকে স্যালুট দেওয়ার ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না।
এই সমালোচনার বিষয়ে বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সম্প্রতি বিজয়ের স্ত্রী সঙ্গীতা তাদের বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন প্রত্যাহার করে নিলেও, পূর্বে দেওয়া পিটিশনে তিনি মানসিক নির্যাতন, অবহেলা এবং বিজয়ের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ এনেছিলেন। বিজয় অবশ্য এক জনসভায় এই বিষয়টিকে ‘অহেতুক’ বা ‘মূল্যহীন’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, তৃষাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। এর আগে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্টালিনকে তৃষাকে উদ্দেশ্য করে ‘দ্ব্যর্থবোধক’ মন্তব্য করার অভিযোগে তাকে বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে সেসময় তার বিরুদ্ধে নারীর সম্মানহানি এবং অশালীন শব্দ ব্যবহারের ধারায় মামলা রুজু করা হয়।


